Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৩rd নভেম্বর ২০২১

মহাপরিচালক

মোঃ আমিনুল ইসলাম

মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউট, ঢাকা।

জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পদ্মা-পাঙ্গাশমারী নদীবিধৌত টিকলীচর গ্রামে এক কৃষক পরিবারে ১৯৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা: মোঃ বেলায়েত আলী মন্ডল; মাতা: সাজেনুর নেসা। আমিনুল ইসলামের একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তিনি জনতা হাইস্কুল থেকে জুনিয়র স্কলারশীপ অর্জনসহ ৮ম শ্রেণী উত্তীর্ণ হোন। তিনি ১৯৭৮ সালে সুজন একাডেমী থেকে ১ম বিভাগে (মানবিক) এসএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮০ সালে রাজশাহী বোর্ডে মানবিক বিভাগে ৬ষ্ঠ স্থান দখল করে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। অতঃপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে ১৯৮৩ সালে প্রথম স্থান দখল করে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রী এবং ১৯৮০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি গভর্নমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে প্রথম শ্রেণীসহ আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। আমিনুল ইসলাম বিবাহিত। জীবনসঙ্গিনী রোকশানা পারভীন লীনা রাজশাহীর মানুষ এবং তার সকল সৃজনশীল কাজের প্রধান প্রেরণা ও সহায়ক শক্তি। মেয়ে ডালিয়া নওশিন লুবনা এবং ছেলে রাগীব ইশরাক সজন দুজনই প্রকৌশলী।

 

২। চাকরিজীবন

 

জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম (৪৫০৬) বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ১৯৮৫ ব্যাচে মেধাতালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান দখল করে ১৯৮৮ সালে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট, এসি ল্যান্ড, আরডিসি, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে প্রায় ১৬ বছর যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লক্ষীপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নওগাঁ প্রভৃতি জেলায়  চাকরি করেন। তিনি সিনিয়র সহকারী সচির পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং উপসচিব হিসাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে , বিনিয়োগ বোর্ডেও পরিচালক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার বর্তমান  পোস্টিং  বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক।

 

৩। বিদেশ ভ্রমণ

 

তিনি চাকরিসূত্রে ভারত, মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, স্পেন, পর্তুগাল, মিসর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিজি, মায়ানমার , জাপান এবং প্রায় সমগ্র বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন।

 

 

 

 

৪। সাহিত্যচর্চা

 

জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম বর্তমান বাংলা সাহিত্যের এক সুপরিচিত কবি। তার লেখক নাম “আমিনুল ইসলাম”। বর্তমান সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের যারা সাহিত্যচর্চা করছেন তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিচিতি একটি নাম আমিনুল ইসলাম। জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য পাতা, লিটল ম্যাগাজিন এবং সাহিত্য পত্রিকা সবখানেই আমিনুল ইসলামের কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ প্রায়শ চোখে পড়ে। তিনি এ সময়ের একজন বহুল আলোচিত কবি।  আমিনুল ইসলাম  ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি করে আসছেন।  তবে কবি-প্রাবন্ধিক  হিসাবে আত্মপ্রকাশ নব্বই দশকে। লেখার বিষয় : কবিতা, প্রবন্ধ, ছড়া এবং সংগীত বিষয়ে গবেষণাধর্মী নিবন্ধ। এ যাবৎ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্য ২৫। তিনি বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য।

 

৫। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:

 

(ক) কবিতাগ্রন্থ

 

তন্ত্র থেকে দূরে- (২০০২); মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম- (২০০৪); শেষ হেমন্তের জোছনা-(২০০৮); কুয়াশার বর্ণমালা (২০০৯); পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি-(২০১০); স্বপ্নের হালখাতা-(২০১১); প্রেমসমগ্র-(২০১১); জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার-(২০১২); শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ-(২০১৩); কবিতাসমগ্র- (২০১৩); জোছনার রাত বেদনার বেহালা : (২০১৪) ; তোমার ভালোবাসা আমার সেভিংস অ্যাকউন্ট (২০১৫); প্রণয়ী নদীর কাছে (২০১৬); ভালোবাসার ভূগোলে (২০১৭); নির্বাচিত কবিতা (২০১৭);  অভিবাসী ভালোবাসা (২০১৮); জলের অক্ষরে লেখা প্রেমপত্র (২০১৯); বাছাই কবিতা (২০১৯); প্রেমিকার জন্য সার-সংক্ষেপ (২০২০); হিজলের সার্কিট হাউজ (২০২১) ;

(খ) ছড়ার বই :

 

১.দাদুর বাড়ি-(২০০৮); ২. ফাগুন এলো শহরে-(২০১২) ৩. রেলের গাড়ি লিচুর দেশ (২০১৫)।

 

(গ) প্রবন্ধগ্রন্থ :  বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ-(২০১০)।

 

(ঘ) গবেষণাগ্রন্থ : নজরুলসংগীত: বাণীর বৈভব (২০২১); (বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত)

 

সম্মাননা/পুরস্কার :

 

(১) রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাংগঠনিক সম্মাননা ২০০৪ ;

(২) বগুড়া লেখক চক্র স্বীকৃতি পুরস্কার ২০১০ ;

(৩) শিশুকবি রকি সাহিত্য পুরস্কার ২০১১ ; 

(৪) নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সম্মাননা ২০১৩ ;

(৫) গাঙচিল সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫ ; 

(৬) এবং মানুষ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ ; 

(৭) দাগ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮;

(৮) কবিকুঞ্জ পরুস্কার ২০২১।

 

 

          কবিতা রচনায় দশকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে শব্দ ও ভাষার ব্যবহারে তিনি কবিতার নিজস্ব একটি ধরন নির্মাণে সক্ষম হয়েছেন বলে তার কবিতার আলোচকগণ প্রায় সকলেই বলেছেন। দুর্বোধ্য নয় অথচ গভীর ব্যঞ্জনাময়--এটি হচ্ছে তার কবিতার সবচেয়ে বড় দিক। তার কবিতায় জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতা, স্বদেশ ও বিশ্ব, ঐতিহ্য ও বর্তমান এবং শহর ও প্রকৃতির অপূর্বসুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে। তাকে ‘ শিকড়বৈভবের কবি’, ‘প্রত্ন-ঐতিহ্যের কবি’, ‘স্বাধীন কবি’, ‘প্রতীকী প্রতিবাদের কবি’, আধুনিক প্রেমের কবি’, ‘উত্তরাধুনিকদের চেয়েও অগ্রসর কবি’, ‘উত্তর-ঔপনিবেশবাদী কবি’ প্রভৃতিঅভিধায় অভিহিত করেছেন আলোচকগণ। মননশীল প্রবন্ধের জন্যও তিনি সমানভাবে স্বীকৃত। তার কবিতা নিয়ে বিভিন্ন কবি-গবেষকের  এযাবত ৭০/৮০ টি প্রবন্ধ/নিবন্ধ প্র্রকাশিত হয়েছে। সেদিক থেকে এসময়ের সবচেয়ে আলোচিত একজন কবি। তাকে নিয়ে ‘পুনশ্চ’, ‘অদ্রি’, ‘পাতাদের সংসার;, ‘দৃষ্টি’ প্রভৃতি লিটল ম্যাগাজিন ক্রোড়পত্র  এবং বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। আমিনুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম ও চাকরিজীবন নিয়ে ড. হরিদাস ঠাকুরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘‘ সমবায় আঙিনায় সৃজনশীলতার আলো : একজন আমিনুল ইসলাম’’ নামক বিশাল আয়তনের গ্রন্থ। আমিনুল ইসলামের কবিতা নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জনাব নাজিয়া ফেরদৌস রচিত ‘ আমিনুল ইসলামের কবিতা: ভিন্ন ধারায় সত্যানুসন্ধান’ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। আমিনুল ইসলামের কবিতা নিয়ে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি-গবেষকগণ প্রচুর লেখালেখি করেছেন এবং সে ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

 


Share with :

Facebook Facebook